পুলিশ বাহিনীর কাঠামো এবং কার্যপ্রণালীতে পরিবর্তন আনতে এবার স্থায়ী ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের সুপারিশ উঠে এসেছে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে। সংবিধান সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে আরও জবাবদিহিমূলক, মানবাধিকারের প্রতি সংবেদনশীল এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রধান সুপারিশসমূহঃ পুলিশের কর্মকাণ্ড এবং দাবি-দাওয়ার সুষ্ঠু সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতিকে চেয়ারম্যান করে একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বলপ্রয়োগ এবং মানবাধিকারের বিষয়ে পুলিশের প্রশিক্ষণকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ। কনস্টেবল পদে এইচএসসি পাস যোগ্যতা এবং স্নাতক ডিগ্রির পর সাব-ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হওয়ার সুযোগ। পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় ও আলাদা সিলেবাস প্রণয়ন। প্রাণঘাতী অস্ত্র কমানো: অভিযানে শর্ট ব্যারেল অস্ত্র ব্যবহারের উপর জোর। বিক্ষোভ মোকাবিলায় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ।
জরিপের মতামত: ৮৯.৫% মানুষ পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি করেছেন। গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবি করেছেন ৭৪.৯%। ভুয়া মামলা বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন ৯৫%।
বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জঃ সংস্কার কমিশনের খসড়া প্রতিবেদনের উপর পুলিশ সদর দপ্তরের মতামত যোগ করে কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে ‘পেটুয়া’ বাহিনীর ইমেজ থেকে মুক্ত করতে হবে। কমিশনের নেতৃত্ব এবং কাঠামো নিয়ে মতদ্বৈধতা রয়ে গেছে।
১৮ বার পুলিশ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি। এবারের উদ্যোগে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণ এবং প্রস্তাবনা নতুন সম্ভাবনার দিক উন্মোচন করছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং জনমুখী পুলিশ বাহিনী গঠনে এই উদ্যোগ সফল না হলে পূর্বের উদ্যোগগুলোর মতো এটি ব্যর্থ হতে পারে।
সংস্কার কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে।
এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি দক্ষ, মানবিক এবং জবাবদিহিমূলক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল। সুত্র বি ডি নিউজ
0 মন্তব্যসমূহ